Follow us

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে: বিশ্ব ব্যাংক

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2018-10-02
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ। যা সরকারের মেগা প্রজেক্টগুলোর মধ্যে অন্যতম। ছবিটি শরিয়তপুর জাজিরা পয়েন্ট থেকে তোলা। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ। যা সরকারের মেগা প্রজেক্টগুলোর মধ্যে অন্যতম। ছবিটি শরিয়তপুর জাজিরা পয়েন্ট থেকে তোলা। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
নিউজরুম ফটো

খেলাপি ঋণ আদায় ও বড় প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারলে বাংলাদেশে গত কয়েক বছরের প্রবৃদ্ধির ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ব ব্যাংক।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এই মন্তব্য করেন বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা মনে করি। তবে আর্থিক খাতে বেশ কিছু সংস্কার করতে হবে।”

জাহিদ বলেন “এর মধ্যে ব্যাংক খাতের বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মেগা প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।”

বিশ্বের ১০টি উদীয়মান দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি জানিয়ে জাহিদ বলেন, “রফতানি ও রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধি যেন কমে না যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। শিক্ষা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে।”

বিশ্বব্যাক আরও জানায়, সরকারের গৃহীত বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের গুণগত মান ও খরচ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে কী ধরনের অর্থনৈতিক সুফল আসবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত কোনও হিসাব এখনও করা হয়নি।

এসব সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন অর্থনীতিবিদ গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বেনারকে বলেন, “আমাদের প্রবৃদ্ধির উৎস যতটা ভোগের উপর নির্ভরশীল ততটা বেসরকারি বিনিয়োগ থেকে আসছে না। তাই বিনিয়োগ আনতে হলে বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা আছে সেদিকে নজর দিতে হবে।”

“সেই দৃষ্টিকোণ থেকে অবশ্যই মেগা প্রকল্প যেগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য করা হচ্ছে সেগুলো দ্রুত শেষ জরুরি। অবশ্য এগুলোর সময় বারবার অতিক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এগুলোকে বাস্তবায়ন করা যায় সেদিকে প্রাধিকার দেওয়া। এসব প্রকল্প যত দ্রুত শেষ করা যাবে তত দ্রুত রিটার্ন বেশি পাওয়ার সম্ভবনা থাকে,” বলেন তিনি।

প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণের কারণে আগামী বাজেটে চাপ আসবে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। একইসঙ্গে বাজেটে চাপ মোকাবিলায় আর্থিক খাত সংস্কারেরও প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে সিপিডির গবেষক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “অবশ্যই ঋণ খেলাপি বৃদ্ধির কারণে এবং কু-ঋণ বাড়ার কারণে একদিকে ব্যাংকের তহবিল সংকট হচ্ছে অন্যদিকে লেবার ব্যয় বাড়ছে। যেটা বেসরকারি বিনিয়োগের পরিচালন ব্যয়কে বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বিনিয়োগকে আরো কস্টলি করে দিচ্ছে।”

“যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগের জন্য চালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারী বা‍ উদ্যোক্তা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে একইসাথে মেগা প্রকল্প এবং ঋণ খেলাপির বিষয়ের উপর নজর দেওয়া জরুরি,” বলেন তিনি।

এছাড়া বাংলাদেশে মূলধন ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো ও রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ খাতে জোর দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফান, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান।

প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ শতাংশ

চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক। তবে এ প্রবৃদ্ধির জন্য আর্থিক খাতে বেশ কিছু সংস্কারের পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।

জাহিদ হোসেন জানান, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি ও রেমিটেন্সের ইতিবাচক ধারা এই ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে অবদান রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের এই অনুমান এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি এবং বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। গত ২৬ সেপ্টেম্বর এডিবির বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জিডিপি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে উল্লেখ করা হয়। যেখানে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেছে বাংলাদেশ সরকার।

গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। যদিও ওই দুই বছরে বাংলাদেশের প্রকৃত প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল এডিবি ও বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস থেকে বেশি।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন