Follow us

দ্বিতীয়বার যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রধানমন্ত্রীর জন্য আলাদা উড়োজাহাজ কেনা হবে

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016-11-28
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
যান্ত্রিক ত্রুটির পর জরুরি অবতরণ করা বিমানের একই উড়োজাহাজে হাঙ্গেরি পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। নভেম্বর ২৭, ২০১৬।
যান্ত্রিক ত্রুটির পর জরুরি অবতরণ করা বিমানের একই উড়োজাহাজে হাঙ্গেরি পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। নভেম্বর ২৭, ২০১৬।
স্টার মেইল

বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে পরপর দুবার যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য আলাদা উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রপতিও আলাদা উড়োজাহাজ ব্যবহার করবেন।

গত রোববার হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের উদ্দেশে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে (বোয়িং ৭৭৭) যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে।

এরপর সেটি তুর্কমিনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রায় চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি করতে হয়। সেখানেই বিমানের ত্রুটি মেরামত করার পর আবার সেটি হাঙ্গেরির উদ্দেশে রওনা হয়।

এর আগে চলতি বছরের ৭ জুন সৌদি আরব থেকে দেশের ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটিকে ৩৭ মিনিট আকাশে অবস্থান করতে হয়। অবতরণের সময় রানওয়েতে ধাতব বস্তু পড়ে থাকায় এই বিলম্ব হয়। এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

“পরপর ওই দুটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য খুব শিগগির আলাদা উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে,” বেনারকে জানান বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে ত্রুটির ঘটনা নিয়ে গতকাল সোমবার সংসদীয় কমিটিতে তোপের মুখে পড়েন রাশেদ খান মেনন। এ কথা স্বীকার করে মেনন বেনারকে বলেন, সংসদীয় কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আরও বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, “পরপর দুটি ঘটনায় আমরা গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছি। আমরা জানতে চেয়েছি, প্রথম ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।”

দুটি তদন্ত কমিটি

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ দুটি পৃথক কমিটি করেছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য কারও অবহেলা ও দায় পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এর পক্ষ থেকে প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সদস্যরা হলেন ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরী এবং দুই প্রকৌশলী মো. হানিফ ও নিরঞ্জন রায়। কমিটি আগামী ১ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দেবে।

আরেকটি কমিটি করা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্বপন কুমার সরকারের নেতৃত্বে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের ইঞ্জিনের তেলের প্রেশার কমে যাচ্ছিল। এ কারণে কাছের এয়ারপোর্ট আশখাবাদে অবতরণ করতে হয়েছে। সেখানে ইঞ্জিনিয়াররা বিমানটি সারিয়ে চার ঘণ্টা পর আবার উড্ডয়ন উপযোগী করে তোলেন।

মন্ত্রী বলেন, “গতকাল পর্যন্ত আমাদের কনসার্ন ছিল মূলত প্রধানমন্ত্রী নিরাপদে পৌঁছেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া।”

আগের ঘটনা ধামাচাপা

এর আগে এমন ঘটনা ঘটলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ৭ জুন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে রানওয়েতে ধাতব বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ না করে প্রায় ৩৭ মিনিট আকাশে উড়তে থাকে।

ওই ঘটনার পর তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলার জন্য কয়েকজনকে দায়ী করে হয়। তবে তাদের কেবল সতর্ক করে দেওয়া হয়।

এই কমিটির প্রতিবেদন সম্পর্কে দায়িত্বশীল কেউ কিছু বলতে পারেননি। তবে ঘটনার পরপরই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের অপারেটর কামরুলকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজ করা হয়।

এর দুদিন পর ৯ জুন দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রকৌশল শাখার কর্মী (প্রকৌশলী) রফিকুল ইসলাম ও সোহেল আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে দায়ী ব্যক্তিদের তালিকায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ আছে।

“ওই সময়ে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনে কাকে দায়ী করা হয়েছে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই,” বেনারকে জানান বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন