Follow us

সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের

শরীফ খিয়াম
ঢাকা
2018-11-11
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের পক্ষে যৌথ বিবৃতি পাঠ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১১ নভেম্বর ২০১৮।
ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের পক্ষে যৌথ বিবৃতি পাঠ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১১ নভেম্বর ২০১৮।
কামরান রেজা চৌধুরী/বেনারনিউজ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটও।

ঢাকায় রোববার দুপুরে পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা আসে। তবে নির্বাচন এক মাস পেছানোর দাবি জানিয়েছে ঐক্যজোট ও ২০ দল। বিকেল অবধি এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বেনারকে বলেন, “সরকারের নির্দেশনা ছাড়া কিছুই করতে পারবে না ইসি। এখন দেখা যাক, সরকার কী করে।”

ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “নির্বাচনের তফসিল পেছানো হলে বা পুনঃতফসিল হলে আওয়ামী লীগের আপত্তি নেই। কিন্তু সেটা হতে হবে সবার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে।”

“নির্বাচন কমিশনকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারও চাপের মুখে তফসিল পেছানো বা পুনঃতফসিল করা যাবে না,” যোগ করেন তিনি।

ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাকে ‘খুবই ইতিবাচক’ বলে মনে করছেন ড. আতাউর। বেনারকে তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে ঐক্য ধরে রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেনের পক্ষে যৌথ বিবৃতি পাঠ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এতে বলা হয়, “ভীষণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা বর্তমান তফসিল বাতিল করে নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি করছি।”

সে ক্ষেত্রেও বর্তমান সংসদের মেয়াদের মধ্যেই নির্বাচন করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ২০দলীয় জোটের মুখপাত্র, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, “গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আমরা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

নির্বাচন অন্তত এক মাস পেছানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, নির্বাচনের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে।”

“নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী সমন্বয় হবে,” বলেও উল্লেখ করেন অলি।

আরেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বেনারকে বলেন, “ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের এই ঘোষণার মাধ্যমে দেশ আরেকটি নির্বাচনমুখী সহিসংতার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে।”

নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি দেশের জনগণের জন্যও ইতিবাচক হবে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক উপাচার্য।

আশাবাদী ড. কামাল

সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল বলেন, “আমরা জনগণের ঐক্যের ওপর জোর দিচ্ছি। আমাদের ইতিহাসে দেখা গেছে, যখনই জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। ইনশা আল্লাহ এবারও হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হবে।”

“সবচেয়ে বড় দাবি পরিবর্তন। সংবিধানের মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে এই ঐক্য গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই ঐক্য,” যোগ করেন এই নেতা।

ফখরুল বলেন, “জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন কমিশন ও সরকারের তৎপরতার প্রতি কড়া নজর রাখবে।”

রাজনৈতিক এই জোটটি আন্দোলনের অংশ হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। তাঁরা সাত দফা দাবি থেকে পিছিয়ে আসছেন না জানিয়ে ফখরুল বলেন, “নতুন করে তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার দাবি যুক্ত করা হয়েছে।”

এদিকে ঐক্যফ্রন্ট একক প্রতীক ‘ধানের শিষ’ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ইতিমধ্যে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চেয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) রোববার এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

তবুও সহিংসতার শঙ্কা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রবিবার ক্ষমতাসীন দলের দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজনের প্রাণহানির ঘটনা উল্লেখ করে ড. আতাউর বলেন, “এ জাতীয় ঘটনা এবার আরও অনেক ঘটতে পারে।”

তাঁর ধারণা, “আওয়ামী লীগের এখন মূল চ্যালেঞ্জটা হবে নিজেদের দল ও জোটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সামলানো। নয়তো এ কারণে অনেক আসন হারাতে হতে পারে তাদের। আবার এটা ঐক্যফ্রন্টের জন্য একটা সুযোগ।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন